দুধে ভেজাল নিয়ে বিএসটিআই-নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের বিপরীত বক্তব্য


জবাবদিহি রিপোর্ট : বাজারে প্রাপ্ত ৯৩ তরল দুধের নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদন নিয়ে বিপরীতমুখী অবস্থানে সরকারি দুই প্রতিষ্ঠান বিএসটিআই এবং নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। ন্যাশনাল ফুড সেফটি ল্যাবরেটরির রিপোর্টের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে উচ্চ আদালতে প্রশ্ন তুলেছে বিএসটিআই।

আদালত বলেছেন, মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে দেয়া হবে না কাউকে। এক মাসের মধ্যে দুধ পরীক্ষা করে ভেজালে কারা জড়িত সে বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দিতে বলেছেন আদালত।

বাজারে প্রাপ্ত তরল দুধের ৯৬টি ব্র্যান্ডের নমুনা পরীক্ষায় ৯৩টিতে ক্ষতিকারক রাসায়নিক উপাদান ও ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতির রিপোর্ট দিয়েছিল নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ফুড সেফটি ল্যাবরেটরি। এছাড়া প্যাকেটজাত দুধের ৩১টি নমুনার মধ্যে ১৭টি এবং দইয়ের ৩৫টি নমুনার মধ্যে ১৭টিতেই ক্ষতিকারক উপাদান পাওয়ার কথা জানায় সংস্থাটি।

বুধবার নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের এ রিপোর্টের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে বিএসটিআই। তারা আদালতকে জানায়, তাদের পরীক্ষায় আতঙ্কিত হওয়ার মতো কিছু পাওয়া যায়নি।

বিএসটিআই এর আইনজীবী সরকার এম আর হাসান বলেন, কোনো পণ্যেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিষাক্ত সীসা পাওয়া যায় নি, যেগুলো জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হয়।

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের আইনজীবী ফরিদুল ইসলাম জানান, ঐ রিপোর্টর যথার্থতা যাচাইয়ে ১৬ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটিই চূড়ান্ত করবে দুধে ভেজাল দেয়ার জন্য দায়ী কারা। তিনি বলেন, রিপোর্টে প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম থাকবে, পণ্যের নাম থাকবে, ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখ করা থাকবে।

এদিন শুনানিতে আদালতে বলেন, মানুষের জীবন নিয়ে স্বেচ্ছাচার সহ্য করা হবে না। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন বলেন, মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর কোনো কিছুই কোনো খাবারে মেশানো যাবে না।

দুধ পরীক্ষা করে আগামী এক মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট দিতে বিএসটিআই এবং নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন উচ্চ আদালত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
আজকের সংবাদ শিরোনাম :
%d bloggers like this: