ধর্ষণের মহামারীতে অভিশপ্ত বাংলাদেশ


|| মো. সাখাওয়াত হোসেন ||
জন্ম হোক যথা তথা কর্ম হোক ভাল- কবির এই মহাকাব্যিক পঙক্তি আমাদের জীবন সংগ্রামের পাথেয়কে নির্দেশ করে দিয়েছে। অর্থাৎ আমরা আমাদের কর্মের গুণেই সমাজে কিংবা রাষ্ট্রে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হবো।

এখন আর সেই সমাজব্যবস্থা নেই যেখানে বংশমর্যাদা কিংবা উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত কোন বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে আপনি মূল্যায়িত হবেন, আবার আপনার অপকর্মের কারণে সমাজ আপনাকে শাস্তি প্রদান করবে না কিংবা দোষারোপ করবে না-সেরূপ এখন আর দেখা যায় না। আপনি যেইই হোন না কেন, আপনার কর্মই আপনাকে মূল্যায়নে সাহায্য করে থাকে।

উদাহরণস্বরূপ বলা যায়-একটা সময় ভাবা হত সমাজের উঁচু পর্যায়ে বসবাসরত মানুষ এবং নারীরা সঙ্গত কারণেই অপরাধের সাথে জড়িত হয় না। কিন্তু অপরাধের পাঠবৈজ্ঞানিক কার্যক্রম এবং একাডেমিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকে গবেষণার মাধ্যমে সমাজে বদ্ধ প্রতিষ্ঠিত সে সব ধারণার আমূল পরিবর্তন হয়েছে।

উঁচু শ্রেণির মানুষের অপরাধী হওয়ার অনেক উদাহরণ রয়েছে এবং পাশাপাশি দেখা যাচ্ছে পুরুষের ন্যায় নারীরাও অপরাধের দিকে ধাবিত হচ্ছে। তথ্য উপাত্তের মাধ্যমে জানা যায়, বর্তমান বাংলাদেশে ধনবান এবং ক্ষমতাশালীরা ধর্ষণের মতো ঘৃণ্য এবং সমাজবিরোধী অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়ছে। ধর্ষণের উদাহরণ এই কারণেই বললাম কারণ বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত একের পর এক দেশের কোন না কোন প্রান্তে ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে অথবা ধর্ষণের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

বিশেষ করে ফেনীর নুসরাতের ঘটনার পর সারা বাংলাদেশে সকল পেশা শ্রেণির মানুষ যেভাবে প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছে এককথায় তা অনন্যসাধারণ। তারপরেও কিন্তু বেশ কয়েকটি ধর্ষণ এবং ধর্ষণের চেষ্টা চালানো হয়েছে; বিষয়টি খুবই দুশ্চিন্তার এবং সামাজিক অনাচারের বহি:প্রকাশ। তাহলে এটাও বোঝা যাচ্ছে যে, যারা ধর্ষণের সাথে জড়িত এবং ধর্ষণকে আশ্রয় প্রশ্রয় দেয় তারা প্রচলিত আইন কানুনের তোয়াক্কা করে না এবং তারা বেশ প্রভাবশালী ও ক্ষমতাবান।

মানসিক বিকৃতিসম্পন্ন এবং একশ্রেণির প্ররোচনাকারী মানুষ এবং তাদের সাথে জড়িত রাজনৈতিক নামধারী কৃচ্ছধারনকারী ব্যক্তি প্রশাসনের যোগসাজশে ধর্ষণ নামক অপরাধটিকে সামাজিক ব্যধি হিসেবে ইতোমধ্যে পরিগণিত করেছে। ফেনীর ঘটনার তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান, তদন্ত শেষেই বেরিয়ে আসবে কারা এ ধরনের হীন অপরাধের সাথে সংযুক্ত রয়েছে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের পরিসংখানে জানা যায়, ২০১৬ সালে দেশে এক হাজারের বেশি নারী ও কন্যা শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ১৪টি জাতীয় দৈনিকের খবর পর্যবেক্ষণ করে সংগঠনটি বিবৃতি দিয়েছে যে, ২০১৬ সালে বাংলাদেশে ১০৫০ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছে। বর্তমান বাংলাদেশে সাধারণত তিন ধরনের ধর্ষণের কথা জানা যায়; ধর্ষণ, গণধর্ষণ এবং ধর্ষণের পরে হত্যা।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের রিপোর্টের মাধ্যমে জানা যায়, ২০১৭ সালে সমগ্র বাংলাদেশে ৮১৫ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ধনবান, ক্ষমতাশালী, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য, পরিবহন শ্রমিক-এ পর্যায়ের লোকজন ধর্ষণের সাথে জড়িত। সংস্থাটির পরবর্তী বছরের রিপোর্টের মাধ্যমে জানা যায়, ২০১৮ সালে সারাদেশে ধর্ষণ ও গণধর্ষণের শিকার হয়েছে ৭৩২ জন; ধর্ষণ পরবর্তী হত্যার শিকার ৬৩ জন এবং ধর্ষণের পরে আত্মহত্যা করেছে ৭ জন। অর্থাৎ, ধর্ষণ সমাজে একটি প্রচলিত এবং স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে দেখা যাচ্ছে এবং এর থেকে আমাদের পরিবার এবং সমাজ কেউই নিরাপদ নয়।

বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত ধর্ষণ কেন হচ্ছে তার কারণ অনুসন্ধানের জন্য অপরাধবৈজ্ঞানিক পাঠক্রমের কয়েকটি বিষয়কে সামনে নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে। বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে অপরাধবিজ্ঞানীরা অপরাধের কারণ নির্ণয় করতে সক্ষম হয়েছেন। যেমন: জৈবিক দৃষ্টিভঙ্গি, মনস্তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি, অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি, ভৌগোলিক দৃষ্টিভঙ্গি, প্রাতিষ্ঠানিক এবং বহুমুখী উপাদানমূলক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে অপরাধের কারণ নির্ণয় করা যায়।

যেহেতু আলেচনার বিষয়বস্তু বাংলাদেশে ধর্ষণের কারণ অনুসন্ধান করা সেহেতু মনস্তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি, সমাজতাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং প্রাতিষ্ঠানিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে আলোচনা করা যেতে পারে। বাংলাদেশে ধর্ষণের কারণ বিশ্লেষণে মনস্তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে অপরাধের জন্য সামাজিকভাবে উদ্ভুত বেশ কয়েকটি উপাদান দায়ী। বিশিষ্ট মনোবিজ্ঞানী ফ্রয়েডীয় আলোকপাতে জানা যায়, ইড, ইগো এবং সুপার ইগোর মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে মানুষ অপরাধপ্রবণ হয়ে উঠে। ইড হচ্ছে মানুষের সেই সত্ত্বা যা মানব মনের যে কোন ইচ্ছাকে পূরণের জন্য নানাভাবে প্ররোচণা দিয়ে থাকে, ইগো মানুষকে সামাজিক বাস্তবতা ও রীতিনীতি সম্বন্ধে স্মরণ করিয়ে দেয় এবং সুপার ইগো হচ্ছে ব্যক্তিত্বের সেই দিক যা ব্যক্তির সামগ্রিক আচরণের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে থাকে।

যে ব্যক্তির মধ্যে ইগো এবং সুপার ইগো সক্রিয়ভাবে বলবৎ থাকে সে ব্যক্তি কখনোই অপরাধ করতে পারে না, পাশাপাশি ইগো এবং সুপার ইগো যদি ইডকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয় তাহলে সে ব্যক্তির দ্বারা যে কোন অপরাধ সংঘটন করা কোন বিষয়ই না। একজন ধর্ষণকারী ব্যক্তি কখনোই নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না এবং অপরাধ সংঘটনের সময় কখনোই সামাজিক বিধিনিষেধের তোয়াক্কা করে না এবং নিজের আচরণের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করার ব্যর্থতার ধরুণ ব্যক্তিটি ধর্ষক হয়ে ওঠে।

এছাড়াও মনস্তাত্ত্বিক বেশ কিছু কারণ যেমন; ঈর্ষাপরায়ণতা, হীনমন্যতা, হতাশা, স্বার্থ এবং আদর্শগত দ্বন্দ্ব ইত্যাদি কারণে ধর্ষণের মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটায় দৃষ্কৃতিকারীরা। সর্বশেষ কয়েকটি ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে যদি কারণ অনুসন্ধান করা হয় তাহলে দেখা যাবে বর্ণিত যে কোন বিষয়ের জন্যই ধর্ষণটি ঘটিয়েছে অপরাধীরা। অপরাধীরা অনেক সময়ই ইনফেরিয়টি কমপ্লেক্স এ থাকে বিশেষ করে দৈহিক ত্রুটি, অযোগ্যতা, অক্ষমতা ইত্যাদি কারণেও ন্যাক্কারজনক অপরাধের সাথে জড়িত হয় অপরাধীরা।

অপরাধবিজ্ঞানী সাদারল্যান্ড তার একটি তত্ত্বে উল্লেখ করেছেন; অপরাধমূলক আচরণ হচ্ছে সামাজিক শিক্ষার ফলস্বরূপ। সামাজিক শিক্ষা বলতে একটি ছেলে বা মেয়ের সমাজে বড় হওয়ার পাশাপাশি সামাজিক কাঠামো থেকে অর্জিত শিক্ষাকেই বোঝানো হয়ে থাকে। যে কোন ব্যক্তির জীবনে সামাজিক শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, পঠন পাঠনে আমরা অনেক কিছুই জানতে এবং বুঝতে শিখি। কিন্তু সামাজিক শিক্ষা ব্যক্তির মননে, মগজে আত্নস্থ হয়ে জীবন বিনির্মাণে ব্যাপক ভূমিকা রাখে, হোক সেটি ইতিবাচক কিংবা নেতিবাচক। তাছাড়া, সমাজে বসবাসরত অন্যান্য মানুষের পারস্পারিক মিথস্ক্রিয়ায় একটি ছেলে কিংবা মেয়ে অপরাধপ্রবণ হয়ে উঠে। শুধু তাই নয়, খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু অর্থাৎ নিকটজনের কাছ থেকেই বেশিরভাগ অপরাধীয় আচরণগুলো আত্নস্থ করে থাকে।

আমরা যদি ধর্ষককে এনালাইসিস করি তাহলে দেখা যাবে তার আশেপাশেই অনেকেই কোন না কোন সময় ধর্ষণের মতো অপরাধে দোষী হিসেবে সাব্যস্থ হবে। প্রাতিষ্ঠানিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিচার বিশ্লেষণ করলে যে বিষয়টি উঠে আসে তা হচ্ছে, প্রতিষ্ঠানগুলো ছেলেমেয়েদের প্রকৃত মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারছে না। নৈতিক শিক্ষায় বলীয়ান, বিবেকবোধসম্পন্ন, মানবিক আচরণ ইত্যাদি বোধসম্পন্ন কোন ছেলে/মেয়ে কখনোই অপরাধ করতে পারে না।

অন্যদিকে, ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মূল কাজ হচ্ছে ছেলে/মেয়েদের সৃষ্টিকর্তার প্রদত্ত আদেশ/নিষেধ প্রভৃতির উপর বিশ্বাস বলবৎ করা ও তদানুযায়ী অনুশীলন করার শিক্ষা দেওয়া। কেননা, কোন ধর্মই অপরাধ এবং অপরাধীদের আশ্রয় প্রশ্রয় দেয় না। তাহলে মূলত প্রতিউত্তর আসে; আমাদের সমাজে গড়ে উঠা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হচ্ছে। যদি ব্যর্থ না হতো তাহলে সমাজে প্রতিনিয়ত ধর্ষণের মতো ভয়াবহ অপরাধের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতো না।

অন্যদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মূল কাজ হচ্ছে ছেলেমেয়েদের বিবেককে জাগ্রত করে দেওয়া যার প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা দেশের প্রতি তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ সম্বন্ধে সচেতন এবং দায়িত্বশীল হয়। এ কথা হলফ করেই বলা যায়, কোন বিবেকসম্পন্ন এবং দায়িত্বশীল ছেলে/মেয়ে কোন অপরাধের সাথে সংযুক্ত হতে পারে না। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের সাথে যারা সম্পৃক্ত তাদের যোগ্যতা, কর্তব্যনিষ্ঠ আচরণ ইত্যাদি সম্বন্ধেও অবগত হওয়ার বিষয় রয়েছে। কাজেই বলা যায়, প্রতিষ্ঠানগুলো যদি সুচারুরূপে দায়িত্ব পালন করতে পারে তাহলে শিক্ষার্থীরা সমাজ বিবর্জিত ও জঘন্য কোন অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত হতে পারতো না।

ধর্ষণের মতো ভয়াবহ সামাজিক অপরাধকে সমাজ থেকে চিরতরে নিশ্চিহ্নের জন্য শূন্য সহিষ্ণু নীতি (জিরো টলারেন্স নীতি) অনুসরণ করতে হবে। মাদক, জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে সরকার যেভাবে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করেছে ঠিক সেভাবে ধর্ষণের ব্যাপারেও কোন ছাড় দেওয়ার অবকাশ নেই। বেশ কয়েকটি ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে ধর্ষণকে সমাজ থেকে চিরতরে উৎখাতের জন্য।

প্রথমত: বিচারহীনতার সংস্কৃতি রুখে দিতে হবে, অপরাধী যেই হোন না কেন তাকে বিচারের কাঠগড়ার দাঁড় করাতে হবে। অনেক অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আমরা সমাজে বুক ফুলিয়ে ঘুরতে দেখছি। বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে অপরাধীরা বারংবার অপরাধ করার সাহস পাচ্ছে, যদি পূর্বোক্ত সব ধর্ষণের বিচার হতো তাহলে বর্তমানে যে প্রায়শই ধর্ষণ/ধর্ষণের চেষ্টা হচ্ছে তা হয়তো কমে যেতো।

দ্বিতীয়ত: পাশাপাশি বিলম্বিত বিচারব্যবস্থাও প্রকৃত অপরাধীকে সহজেই শাস্তি প্রদান করতে পারে না কেননা বিচার বিলম্বিত হলে ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রমাণাদি নষ্ট হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয় এবং অনেক সময় দেখা যায় বিবাদীর হুমকি এবং ভয়ে ক্ষতিগ্রস্থরা মামলা তুলে নেয় বিলম্বিত বিচারের কারণে। কাজেই, সংশ্লিষ্টদের প্রত্যেকটি মামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানাই, যদিও নানাবিধ সমস্যা রয়েছে এ সংক্রান্তে তদুপরি সমস্যাগুলোকে তড়িৎগতিতে মোকাবেলা করে বিলম্বিত বিচারব্যবস্থা পরিহার করা বাঞ্ছনীয়।

তৃতীয়ত: পারিবারিক শিক্ষায় মূলত প্রত্যেকটি মানুষের মননশীলতার বুনিয়াদ সৃষ্টি করে থাকে। প্রাতিস্বিক আচরণে প্রত্যেকটি পরিবারেই ভিন্নতা লক্ষ্য করা যায় কিন্তু বুনিয়াদি শিক্ষা যা প্রত্যেকটি মানুষের অন্তরে প্রোথিত ও গ্রোথিত থাকে তা মূলত পরিবারের মাধ্যমেই আসে। বর্তমানে একক পরিবারের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ছেলেমেয়েরা বাবা মায়ের (চাকুরীজীবী) সান্নিধ্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, ছোটরা মানুষ হচ্ছে কাজের মানুষের কাছে। তাছাড়া ইন্টারনেটের অবাধ ব্যবহার ও কিশোর অপরাধীদের সাথে সংশ্লিষ্টতায় শিশু কিশোরেরা ক্রমান্বয়ে অপরাধের দিকে ধাবিত হয়।

অবশ্য যৌথ পরিবারে অনেকেই থাকেন এবং সেখানে দাদা-দাদি এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ছত্রছায়ায় যদি ছেলেমেয়েরা বড় হয় তাহলে তাদের মধ্যে নৈতিক শিক্ষা ও সামাজিক শিক্ষা বহুলাংশে গ্রোথিত হয়ে থাকে। কিন্তু আমরা প্রতিনিয়ত যৌথ পরিবার ভেঙ্গে একক পরিবারের সংখ্যাই দেখতে পাচ্ছি সঙ্গত কারণে। এ বিষয়টিও ছেলেমেয়েদের নৈতিক শিক্ষা গ্রহণের অন্তরায় হিসেবে কাজ করে থাকে।

চতুর্থত: প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার অভাবে নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা নানামুখী অপরাধে লিপ্ত হয়ে পড়ছে। স্কুল, কলেজ এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঢেলে সাজাতে হবে এবং প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের পূর্বে সুষ্ঠুভাবে যাচাই বাছাইয়ের ভিত্তিতে নিয়োগ প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। নৈতিক শিক্ষা, পারিবারিক শিক্ষা এবং প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাই একটি মানুষকে পরিপূর্ণ বিবেকবান মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে থাকে।

শেষত: এ ছাড়াও ধর্ষণের যে ঘটনাগুলো তদন্ত হচ্ছে প্রত্যেকটি মামলায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করে সমাজে বসবাসরত ঘৃণ্য শ্রেণির পশুরূপী মানুষদের মনে ভয় এবং বিচারের কঠোরতার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে। কাজেই ধর্ষণ থেকে পরিত্রাণের জন্য বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করতে হবে, বিলম্বিত বিচারব্যবস্থা বন্ধ করতে হবে, পারিবারিক শিক্ষাকে আরো মজবুত করতে হবে, প্রাতিষ্ঠানিক সুশিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে এবং সর্বোপরী ধর্ষককে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করতে হবে। তাহলেই সমাজ থেকে ধর্ষণের মধ্যে ভয়াবহ ব্যধি ক্রমান্বয়ে দূরীভূত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
আজকের সংবাদ শিরোনাম :
%d bloggers like this: